আখিরাতের সঙ্গে দুনিয়ার তুলনা

Posted on April 26, 2026   7.2K

আখিরাতের সঙ্গে দুনিয়ার তুলনাই হতে পারে না। মানুষের বোঝার জন্য আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল দুনিয়ার তুলনায় আখিরাতের মূল্য স্পষ্ট ও পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো :


১. সত্তাগতভাবে দুনিয়ার মূল্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত।’ (সুরা : আল-আনকাবুত, আয়াত : ৬৪)

২. সময়ের দিক থেকে দুনিয়ার মূল্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের কী হলো, যখন তোমাদের বলা হয়, আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধে) বের হও, তখন তোমরা মাটি জড়িয়ে ধরো? তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হলে? অথচ দুনিয়ার জীবনের ভোগ-সামগ্রী আখিরাতের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।’ (সুরা : আত-তাওবা, আয়াত : ৩৮)

৩. পরিমাপগত দিক থেকে দুনিয়ার মূল্য : বানু ফিহরের ভাই মুসতাওরিদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনা অতটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখল যে কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া এ সময় শাহাদাত আঙুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৮৫৮)

৪. অর্থ সম্পদের দিক থেকে দুনিয়ার মূল্য : জাবের ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুল (সা.) আলিয়া অঞ্চল থেকে মদিনায় আসার পথে এক বাজার দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় রাসুল (সা.)-এর উভয় পাশে বেশ লোকজন ছিল।

অতঃপর তিনি ক্ষুদ্র কানবিশিষ্ট একটি মৃত বকরির বাচ্চার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তার কাছে গিয়ে এর কান ধরে বলেন, ‘তোমাদের কেউ কি এক দিরহাম দিয়ে এটা ক্রয় করতে আগ্রহী?’ তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, কোনো কিছুর বদৌলতে আমরা এটা নিতে আগ্রহী নই এবং এটি নিয়ে আমরা কী করব? তখন রাসুল (সা.) বলেন : ‘বিনা পয়সায় তোমরা কি সেটা নিতে আগ্রহী?’

তাঁরা বলেন, এ যদি জীবিত হতো, তবু তো এটা ত্রুটিযুক্ত। কেননা এর কান ছোট। আর এখন সেটা তো মৃত, আমরা কিভাবে তা গ্রহণ করব? অতঃপর তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! এটা তোমাদের কাছে যতটা নগণ্য, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এর তুলনায় আরো বেশি নগণ্য।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৫৭)

৫. আয়তনের দিক থেকে দুনিয়ার মূল্য : সাহল ইবনু সাদ আস-সাঈদি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে চাবুক পরিমাণ সামান্য জায়গাও দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে, তার থেকে উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৫০)

৬. উপভোগের দিক থেকে দুনিয়ার মূল্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি বলো, দুনিয়ার সুখ সামান্য। আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য আখিরাত উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সুতা পরিমাণ জুলুমও করা হবে না।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৭৭)

৭. ব্যাবসায়িকভাবে দুনিয়ার মূল্য : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করেছে, নগরগুলোতে তাদের বিচরণ তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে। (এগুলো) অল্প ভোগ্যসামগ্রী। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম আর তা কতই না মন্দ বিছানা।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯৬-১৯৭)

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment