ভারতের সঙ্গে না খেললে যা হারাতে পারে পাকিস্তান

Posted on February 05, 2026   11.7K

ভারতের বিপক্ষে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেললে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপে দেশটির ক্রিকেট অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পিটিআইয়ের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, আইসিসির ২০২৪ থেকে ২০২৭ অর্থচক্রে পাকিস্তানের মোট প্রাপ্য প্রায় ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাকিস্তানি মুদ্রায় যা প্রায় ৪০ বিলিয়ন রুপি। বছরে গড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পায় প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে আইসিসি শাস্তি আরোপ করতে পারে এবং এতে বর্তমান অর্থচক্রেই পিসিবির প্রায় ৪০ বিলিয়ন রুপি ঝুঁকিতে পড়বে।

ওই সূত্রের ভাষায়, এই অর্থের ওপর ভর করেই এখন পর্যন্ত পিসিবি আর্থিকভাবে টিকে আছে। বড় অংশের অর্থ হাতছাড়া হলে পাকিস্তান ক্রিকেটে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে।

সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে পিসিবি ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করে তারা প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তবে স্টেডিয়াম সংস্কার এবং আয়োজন ব্যয় বেশি হওয়ায় টিকিট ও বক্স বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় হয়নি।

লাহোর, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডির তিনটি স্টেডিয়াম উন্নয়নে পিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন রুপি। চলমান সংস্কার কাজের কারণে আয় আরও কমেছে।

পিসিবি এখনো চলতি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের অর্থ পায়নি। সূত্রের দাবি, এই দুই টুর্নামেন্টের অর্থ থেকেই আইসিসি আর্থিক জরিমানা আদায় করতে পারে।

আইসিসির অংশগ্রহণ চুক্তিতে সই করার ফলে বৈধ কারণ ছাড়া কোনো ম্যাচ না খেললে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রচারকারীরাও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। কারণ এই অর্থচক্রে সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ তারা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। একটি ভারত পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই আসে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি আয়।

এই অর্থচক্রে চারটি আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত পাকিস্তান চারটি ম্যাচ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয় নিশ্চিত বলে ধরা হয়। এসব ম্যাচ না হলে সব সদস্য বোর্ডের আয়েই প্রভাব পড়বে।

পিসিবির আরেকটি বড় আয়ের উৎস পাকিস্তান সুপার লিগ। নতুন দুটি দল যুক্ত হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি থেকে বছরে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। তবে এই অর্থের বড় অংশ আবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়।

সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের আর্থিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment