এক জানাজায় ৯ লাশ কাঁদছে গোটা গ্রাম
Posted on March 14, 2026 8.7K
অপেক্ষা ছিল নতুন জীবনের সূচনার, অপেক্ষা ছিল নববধূবরণের। যে বাড়িতে এত অপেক্ষার প্রহর গোনা-এক দিনের ব্যবধানে সেই বাড়িই যেন পরিণত হলো মর্গে। গতকাল বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার শেলবুনিয়া গ্রামে একসঙ্গে জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ জনের লাশ দাফন করা হয়। এর আগে হাসপাতাল মর্গ থেকেই মেহেদিরাঙা সাজে নববধূর লাশ চলে গিয়েছিল খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামে। সেখানে দাফন করা হয় কনেসহ তাঁর পরিবারের চারজনের লাশ।
কয়রা উপজেলার মার্জিয়া আক্তার মিতু ও মোংলার আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল বুধবার রাতে। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে কনেসহ ১৫ জন স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে রওনা দেন বরের বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু সেই যাত্রা আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তাঁর বাবা বিএনপি নেতা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী ও তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাঁদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম। নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। গতকাল বাদ জুমা মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে বরের পরিবারের সদস্যদের দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। এদিকে বরের পরিবারের সদস্যদের দাফন শেষ হলেও থামছে না কান্নার রোল। তাঁদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামের পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বরের বড় ভাই আশরাফুল আলম জনি বলেন, ‘আমার সব শেষ। সবাইকে হারালাম। একা হয়ে গেলাম।’ অপরদিকে কনের বাড়ি কয়রার নাকসা গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে লাশ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকার্ত পরিবেশ তৈরি হয়। দুই মেয়ে আর শাশুড়ির লাশ বাড়িতে আনার সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মিতুর মা মুন্নি খাতুন। এরপর চোখ মেলতে চেষ্টা করলেও বলতে পারছেন না কিছুই। মিতুর বাবা আবদুস সালাম মোড়লও মূর্ছা যাচ্ছেন বারবার। মিতুর নানি আনোয়ারা বেগমের দাফন তাঁর গ্রামের বাড়ি মোংলায় সম্পন্ন হয়।
