খননেও পানি নেই নদীতে
Posted on March 07, 2026 10.4K
শুষ্ক মৌসুম শুরু। তাতেই পানিহীনতা দেখা দিয়েছে রাজশাহীতে পদ্মার শাখা বড়াল ও নারদ নদের বেশির ভাগ স্থানে। যেসব স্থানে সামান্য পানি আছে; সেখানে আছে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল। হোজা ও মুসাখান নদের একই চিত্র। এতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদ-নদীপাড়ের কৃষক। তাদের দাবি, বড় অঙ্কের টাকা ব্যয়ে এসব নদ-নদীতে প্রকল্প নেওয়া হলেও সুফল মেলেনি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদ-নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের খনন প্রকল্প জমা দিয়েছে। এটি অনুমোদন হলে নাব্য সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
রাজশাহীর চারঘাটের পদ্মা থেকে উৎপত্তি বড়ালের। অন্যদিকে মুসাখান নদের উৎপত্তি বড়াল থেকে। আর নাটোরের পাইকপাড়ায় মুসাখান নদ থেকে নারদ যুক্ত হয়েছে পদ্মার সঙ্গে।
জানা গেছে, গত বছর রাজশাহীর বড়াল নদ বাঁচাতে চারঘাটের স্লুইসগেট অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। পরে খুলে নেওয়া হয় তিনটি কপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই পদক্ষেপে কোনো লাভই হয়নি। এ নদের কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও খানিকটা বিস্তৃতি। অথচ একসময় সারা বছরই ভরা যৌবন ছিল এই বড়াল নদের।
এর আগে ২০২৪ সালে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বড়ালের উৎসমুখে খনন করা হলেও এবার শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই নদীটি মৃত প্রায়। যেসব স্থানে পানি আছে সেখানে বাঁধ দিয়ে হচ্ছে মাছ চাষ। বড়ালের সঙ্গে যুক্ত হোজা ও মুসাখান নদেরও একই অবস্থা।
১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার আরেক শাখা নারদ নদের ৩৪ কিলোমিটার খনন করেছিল বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সেই নদেও পানি নেই। মেলে না সেচ সুবিধা। এর ওপর অন্তত ২০টি স্থানে বাঁধও দিয়েছে প্রভাবশালীরা। বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা মুকুল মন্তব্য করেন, সরকারি টাকা তছরুপ করতেই এ প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়। নদ-নদীর কোনো কাজে আসে না।
স্থানীয়রা বলছেন, নদ-নদীগুলো খনন হলেও নেই সুফল। পানি না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে বিলীন হয়ে নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।
পুঠিয়ার নদীপাড়ের মনিরুল ইসলাম বলেন, জোর যার মুল্লুক তার, তেমনি প্রভাব যার নদী তার। প্রভাবশালীরা ইচ্ছামতো বাঁধ দিয়েছে। এতে নদী খালে পরিণত হয়েছে। নদীর পানি দিয়ে এখন আর কৃষিকাজ হয় না। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নদীগুলোর নাব্য ফেরাতে ৫২৮ কোটি টাকার খনন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে ।
