ভারতকে ছাড় বাংলাদেশকে চাপ, যে সত্য সামনে এলো

Posted on January 26, 2026   11.7K

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে জনপ্রিয় ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্পষ্টভাবে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু দেশটিতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। সেই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি ভারতের সব ম্যাচের ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সরিয়ে নেয়। পরে ভারত পাকিস্তান একটি সমঝোতায় পৌঁছালে আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতে যেতে হচ্ছে না এবং তাদের ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে শ্রীলংকার মাঠে।

ভারত পাকিস্তান টানাপড়েনের মধ্যেই আলোচনায় আসে বাংলাদেশ। বিষয়টির সূত্রপাত আইপিএলকে ঘিরে। উগ্রবাদীদের হুমকির কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়া হলে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

আইসিসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। ২২ জানুয়ারি বিসিবি জানায় তারা ভারতে গিয়ে খেলবে না এবং ভেন্যু পরিবর্তন হলে শ্রীলংকায় খেলতে আগ্রহী।

এরপর আইসিসি বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।

উইজডেনের প্রতিবেদনে বলা হয় দুটি ঘটনার মধ্যে সময়ের পার্থক্যই আইসিসির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড স্পষ্ট করে। ভারত সিদ্ধান্ত জানাতে তিন মাস সময় পেলেও বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র এক মাস। সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর এমন স্বল্প সময় দিয়ে চাপ তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় মুস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে ভারতের রাজনৈতিক বার্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। বিসিসিআই কখনোই নিরাপত্তার কথা বলেনি বরং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শব্দটি ব্যবহার করেছে। উইজডেন মনে করে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিলেও সেটাই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। আইসিসির জন্য না বলাটা সহজ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক শক্তি ও তারকা নির্ভর বাজারের কারণে ভারত জানে তাদের ছাড়া আইসিসির টুর্নামেন্ট প্রায় অচল। ফলে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে তারা সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের সেই শক্তি না থাকায় এমন সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনায় ছিল না।

উইজডেনের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে আইসিসি এখন নীতি নৈতিকতা নয় বরং অর্থনৈতিক শক্তিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতের প্রভাবের সামনে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কঠিন লড়াই।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment