সারা দেশে মোবাইলের দোকান বন্ধ ঘোষণা
Posted on January 03, 2026 7.9K
সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবসাসংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু, মোবাইল আমদানিতে করহার কমানো, এনওসি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আটক হওয়া ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারসহ একাধিক দাবিতে এ ঘোষণা দেয় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। গতকাল সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি হলো মোবাইল আমদানিতে করহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, বিটিআরসি নির্ধারিত বিভিন্ন এনওসি (মাদার কোম্পানি, লোকাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনওসি) সহজ করা, মোবাইল আমদানিতে মোট করহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা এবং ব্যবহৃত মোবাইলের জন্যও আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা। এসব দাবি বাস্তবায়ন এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত মোবাইল ব্যবসা-সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কর-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না করেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এনইআইআর চালু করেছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান একাধিকবার কর ইস্যু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু না করার প্রতিশ্রুতি দেন। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ফোনে কথা হলেও এনইআইআর চালু করা হয়েছে। এতে অনেক গ্রাহকের মোবাইল বন্ধ হয়ে গেলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা করেন। বৈঠক না হওয়ায় বিকালে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় বিটিআরসি ভবনের পূর্বপাশ থেকে একদল লোক এসে ভাঙচুর শুরু করে। নিরাপত্তার কারণে আমাদের এলাকা ত্যাগ করতে হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর, ৪৫ জন কারাগারে : বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৫৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ। একই সঙ্গে নাশকতার সময় গ্রেপ্তার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকালে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিটিআরসি ভবনের কাচের দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন। তখন ভবনটির সামনে পার্ক করা একটি স্টাফ বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ২ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল একটি অংশ। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর সিস্টেম চালু করা হয়। পরে এনইআইআর চালুর খবরে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
