যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী
Posted on April 04, 2026 10.6K
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেটের ফোর্ট মায়ার্স সিটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘ডিঅ্যান্ডডি কনভিয়েন্স স্টোর’-এর কর্মচারী নিলুফার ইয়াসমিনকে (৪২) বৃহস্পতিবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের (সিলেট) সাঈদ আলমের ব্যবস্থাপনাধীন সেভরন গ্যাস স্টেশন ও ডিঅ্যান্ডডি কনভিয়েন্স স্টোরের কর্মচারী নিলুফার সকালে তালা খুলে ভিতরে ঢুকে ফজরের নামাজ আদায় করেন। সে সময় আরেকজন স্প্যানিশ মহিলা কর্মচারীও ছিলেন। তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে স্টোরের মালিক ফ্লোরিডা বিএনপির নেতা আরিফ আহমেদ আশরাফ জানান, দুই দিন আগে এক ব্যক্তি (হাইতির ইমিগ্র্যান্ট) স্টোরে এসে এটিএম বুথ থেকে ডলার ড্র করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের সঠিক পিন নম্বর না দিতে পারায় ড্র করা সম্ভব না হওয়ায় ওই লোকটি খেপে গিয়ে গালাগালি করেন নিলুফারকে। তাঁর ধারণা, ডলার ড্র করতে পারলেন না অথচ এটিএম তার ক্রেডিট কার্ড চার্জ করেছে। একপর্যায়ে তিনি চলে যান। সেই লোকটিই পরদিন সকালে এসে নিলুফারকে খুঁজতে থাকেন। সে সময় নিলুফার ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ অবস্থায় লোকটি স্টোরের নিজস্ব পার্কে থাকা একটি জিপ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙচুর করতে থাকেন। তখন নিলুফার বাইরে এলে হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। নিলুফার লুটিয়ে পড়লে অন্তত ছয়বার তাঁর ওপর হাতুড়ি পিটিয়ে লোকটি চম্পট দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এসে দেখে নিলুফার বেঁচে নেই। স্থানীয় ফোর্ট মায়ার্স প্রেসিঙ্কটের পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ৯ ঘণ্টা পর ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত রোবার্ট জোয়াসিনকে (৪০) মাইলখানেক দূর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরিফ আহমেদ আশরাফ আরও জানান, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালীর সন্তান নিলুফার ইয়াসমিন ছয় মাস আগে এই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় ১৮ এবং ১৬ বছরের দুই মেয়ে নিয়ে তিনি বাস করছিলেন ফোর্ট মায়ার্সে। তাঁকে নির্দয়ভাবে হত্যার ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারের পর কমিউনিটিতে ভীতির সঞ্চার ঘটেছে। নিলুফারকে হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী হতভম্ব। সবাই ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
