ঐতিহ্যের নামে প্রাণ গেল ৪১ তরুণের
Posted on January 01, 2026 9.8K
দক্ষিণ আফ্রিকায় সাবালক হওয়ার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব খতনা পালন করতে গিয়ে গত দুই মাসে অন্তত ৪১ জন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহতদের অধিকাংশই খতনাপরবর্তী সংক্রমণ ও ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে প্রাণ হারিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার খোসা, এনদেবেলে, সোথো ও ভেন্ডা সম্প্রদায়ের কিশোর ও তরুণেরা এই ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার শিশু আইন ২০০৫ অনুযায়ী সাধারণত ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের খতনা করানো হয়। এর নিচে খতনা করানো আইনত নিষিদ্ধ।
মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ৪১ তরুণের মৃত্যুর পেছনে খতনা পরিচালনাকারী স্কুলগুলোর চরম অবহেলা ও অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, অনেক স্কুলে তরুণদের পানি পান করতে বাধা দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, পানি না খেলে ক্ষত দ্রুত শুকাবে। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং এটি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দেশটির আইন অনুযায়ী, খতনা পরিচালনাকারী সব স্কুলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় অসংখ্য অনিবন্ধিত স্কুল গড়ে উঠেছে, যেখানে ১৬ বছরের নিচের কিশোরদেরও খতনা করানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে এসব অনিবন্ধিত স্কুলেই। পাশাপাশি অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর আর খোঁজখবর নেন না কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না তা তদারকি করেন না।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশকে এই মৃত্যুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে মারা গেছে ২১ জন তরুণ। ফ্রি স্টেট প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের এবং অন্যান্য এলাকায় আরও সাতজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অবৈধ খতনা স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০০ জন তরুণ বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আফ্রিকান সংস্কৃতিতে ছেলেদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সামাজিক মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও যুদ্ধসংক্রান্ত শিক্ষা দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খতনা এই আচার-অনুষ্ঠানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। উৎসব শেষে তরুণেরা বাড়ি ফিরলে বড় ধরনের উদ্যাপন করা হয়। তবে প্রতিবছরই এই পুরুষত্ব প্রমাণের পরীক্ষায় বহু তরুণ পঙ্গুত্ববরণ করে কিংবা প্রাণ হারায়।
এ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সব অংশীদারকে নিয়ে একটি জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করা হবে, যাতে এই উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনা যায়।
