পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দর কষাকষি, কোথায় আটকে গেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
Posted on April 14, 2026 9.6K
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরান মাত্র পাঁচ বছরের স্থগিতাদেশের পাল্টা প্রস্তাব রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বল্পমেয়াদী প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে তা কার্যত ইরানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পাঁচ বছর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়। এই সময়ের মধ্যে ইরান তাদের সক্ষমতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পুনরায় পরমাণু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করার সুযোগ পাবে। এলমাসরি আরও উল্লেখ করেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে জোরালো দাবি জানাচ্ছে, তা দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়টি সবসময় বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের শূন্য সমৃদ্ধকরণ নীতির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে। ভোটারদের কাছে যেকোনো চুক্তিকে একটি বড় ধরনের এবং নিরঙ্কুশ বিজয় হিসেবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান। তেহরান-ওয়াশিংটনের এই দরকষাকষি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।
