উজ্জীবিত জামায়াত

Posted on February 12, 2026   9.3K

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। প্রচার-প্রচারণায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও সবার মুখে মুখে দাঁড়িপাল্লা স্লোগানে উজ্জীবিত জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের পর ডাকসু, রাকসু, চাকসুসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুল ব্যবধানে জয়, তরুণ ভোটার বা জেন-জিদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানতে পারা, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ, দলের নারী কর্মীদের জোর প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার ও সব শেষ দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৪৩ জেলায় ৬২টি জনসভায় অংশগ্রহণে উচ্ছ্বসিত দলটির নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, নির্বাচন উপলক্ষে মানুষের মধ্যে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তাহলে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট নিরঙ্কুশ জয় পাবে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, জামায়াত আমিরের নির্বাচনি জনসভা ঘিরে ঢাকা থেকে পর্যায়ক্রমে ৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। সময়কে সর্বোচ্চ পরিমাণ কাজে লাগাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ পথ হেলিকপ্টারে এবং বাকিটা সড়ক পথে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। ১৯ দিনে ৪৩ জেলার এই প্রচারাভিযানে সারা দেশে জামায়াতের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, নোয়াখালী কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এসব জনসভায় নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও অংশ নেন জামায়াতের জনসভায়। প্রচারে জামায়াত আমির মূলত কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, ঘরে বাইরে ও কর্মস্থলে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত, তরুণ ও যুবকদের দক্ষ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন, সুশাসন নিশ্চিত, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত অন্যতম। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের পরিবর্তনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই নির্বাচনে জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংস্কারের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায়-ইনসাফের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সৎ ও যোগ্য হিসেবে জামায়াত প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় অন্য শরিকদের মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে জেতার জন্য তাদের পক্ষে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে বেশ কিছু বিষয়। জুলাই বিপ্লবের পর ডাকসু, চাকসু, রাকসু, জকসু, জাকসুসহ দেশের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের বড় ব্যবধানে জয়। তরুণ ভোটার বা জেন-জিদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানতে পারা, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ, নারীদের মধ্যে দলের নারী কর্মীদের জোর প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে আধিপত্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার, জনকল্যাণমুখী ও গ্রহণযোগ্য ইশতেহার, দলের বর্তমান আমিরের দক্ষ নেতৃত্ব, নির্বাচনি জোটে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকা এবং নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় থাকা বহু বিএনপি নেতাকে নির্বাচন থেকে সরাতে দলটির ব্যর্থতার সমীকরণে ভোট বেড়েছে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের।

১১ দলীয় জোট গঠন : এবারের নির্বাচনে জামায়াত বেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গণ অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ এই নির্বাচন। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত নেতারা বলছেন, এবার দেশ পরিচালনায় সাধারণ মানুষ আগে ক্ষমতায় ছিল এমন বড় দলগুলোর বাইরে একটি বিকল্প শক্তিকে বেছে নিতে চাইছে। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতের জোটবদ্ধ শক্ত অবস্থান ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন হচ্ছে, যা গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে না পেরে হতাশ হয়েছে। সে আলোকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মানুষের আকাঙ্ক্ষার জায়গা। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সামনে রেখে আমরা প্রার্থী নির্বাচন করেছি। তারা মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। সবশেষ আমরা ১১ দলীয় জোট করেছি। তাদের সঙ্গে আমরা আসন সমন্বয় করেছি। সুষ্ঠু ভোট হলে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট নিরঙ্কুশ জয় পাবে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment