এখনো টানাপোড়েন জামায়াত জোটে

Posted on January 14, 2026   6K

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মধ্যে এখনো টানাপোড়েন চলছে। তবে আসন সমঝোতায় আসতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। আজকের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জোটের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র। নির্বাচনি আসন বণ্টন নিয়ে প্রায় সব কটি দলের মধ্যে কম-বেশি অসন্তুষ্টি রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি সমঝোতায় কাঙ্ক্ষিত আসন না পাওয়ায় অসন্তুষ্টি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন-সমঝোতায় কেউই শতভাগ খুশি হবেন না। স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্টি থাকবে। এ ছাড়া যে দল দিচ্ছে সেই দলের ঘোষিত প্রার্থীরা দলের স্বার্থে ছাড় দিলেও কেউ নিজে খুশি হন না। তাই অসন্তুষ্টি নিয়েই আসন-সমঝোতা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশের সব আসনে একক প্রার্থী ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে কোন দল কোন কোন আসনে একক প্রার্থী দেবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। জানা যায়, সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গতকাল দিনভর দফায় দফায় দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। সবশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বৈঠক করছেন তারা। এরপর আরও একটি দলের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, এসব বৈঠকে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সমাধান না হলে আজ (বুধবার) সকালে বৈঠকে বসতে পারেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে তা ঘোষণা করবেন। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো দল এতে রাজি না থাকলে তাদের বাদ রেখেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে

বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের নেতৃবৃন্দ এখনো বৈঠকে আছেন। আজ রাতে না হলেও কালকের (বুধবার) মধ্যে সমঝোতার একটা পর্যায়ে চলে যাবে। হয় সমঝোতা হবে আর না হয় হবে না। সমঝোতা না হলে আমরা আলাদা নির্বাচন করব। সেই প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নেওয়া। একা নয়।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, সমঝোতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নেতৃবৃন্দ বৈঠকে রয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় সভাও চলছে। আশা করি রাতে সমাধান না হলেও কালকের (বুধবার) মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।

আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৮৮ আসনে লড়বে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন ৪৬ আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫, খেলাফত মজলিস সাতটি ও এলডিপি ছয়টি, এবি পার্টি তিনটি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুটি আসন। এ ছাড়া খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটি করে আসন দেওয়া হতে পারে। জামায়াতের নেতৃত্বে আট দলের দীর্ঘদিনের তৎপরতার ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে জোটে যুক্ত করে করে জামায়াত। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ওই দিন ১০ দলীয় সমঝোতার ঘোষণা দেন। পরে এতে এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় সমঝোতায় রূপ নেয়। তবে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ের আগে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় সব দলই বাড়তি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরপর আবারও শুরু হয় আসন সমঝোতার বৈঠক।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ : এদিকে নির্বাচনি সমঝোতার জন্য আসন ছাড়ের ঘোষণায় দলগুলোর মধ্যে তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র হয়। এমনকি এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অন্যের সমালোচনা করে পোস্ট দিতেও দেখা গেছে। সমঝোতার কারণে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও বাদ পড়ছেন এবং ভালো জনসমর্থন থাকা আসনও ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই ছাড় কেন্দ্রীয় নেতারা মেনে নিলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সহজে মানতে পারছেন না। এ নিয়ে অনেক এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment