১৯ বছর পর বগুড়ায় যাচ্ছেন তারেক রহমান
Posted on January 05, 2026 11.3K
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তাকে ঘিরে প্রত্যাশার শেষ নেই সাধারণ মানুষেরও। তাদের বিশ্বাস-তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। পরিবর্তন ঘটবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার। বদলে যাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আর ভাগ্য। এই বিশ্বাস থেকেই তারেক রহমান দেশে ফেরায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। তবে বগুড়ায় সেই আনন্দটা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। দেশের অন্য সব জেলার তুলনায় বগুড়ার অনুভূতি যেন আরও গভীর। কারণ, এই বগুড়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। সেই বাবার উত্তরসূরি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বগুড়ার মানুষের চোখে শুধু আনন্দ নয় হৃদয়ে জমে আছে আশার আলো। গত ১৭ বছরের বঞ্চনা, থেমে থাকা উন্নয়ন আর উপেক্ষার ক্ষত মুছে যাওয়ার প্রতীক্ষায় পুরো বগুড়াবাসী।
বিএনপিতে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে তারেক রহমান বগুড়াকে সাংগঠনিক মডেল জেলায় রুপান্তর করেছিলেন। এদিকে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) বগুড়া সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। তার জন্য জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বানানো হচ্ছে নিজস্ব অফিস। সেখানে বগুড়ার স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলীকে দিয়ে অত্যাধুনিক ডিজাইন করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন জানান, ১১ জানুয়ারি তিনি বগুড়ায় পৌঁছে রাতে থাকবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। গণদোয়া শেষে তারেক রহমান শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি হয়ে মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ারের (রহ.) মাজারে যাবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তিনি আবার বগুড়ার মাটিতে পা রাখবেন। তার আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাকে এক নজর দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।
বগুড়াবাসী বলছেন, বগুড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গত ১৭ বছর দৃশ্যত কোন উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা জীবন শেষ করেও চাকরি পাননি অনেকেই। থেকেছেন বেকার। অন্য জেলার বাসিন্দারা চাকরি পেলেও বগুড়ার বাসিন্দারা চাকরি পাননি। করা হয়নি দৃশ্যমূলক কোন উন্নয়ন। বগুড়ার নাম শুনেই বাদ পড়েছে অনেক কিছু। এবার বঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়নের হাল ধরতে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ জানান, রাজনীতিতে তারেক রহমানের অভিষেক হয় বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার নিভূত পল্লী গাবতলী উপজেলা থেকে। প্রথমে গাবতলী থানা বিএনপির সদস্য থাকলেও পরে তাকে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়। দলে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে তারেক রহমান বগুড়াকে সাংগঠনিক মডেল জেলায় রুপান্তর করেন। দলকে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও কাজ শুরু করেন। তিনি হাজার মাইল দূরে থেকেও বেগবান করেছিলেন জুলাই আন্দোলনকে।
জানা যায়, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন বগুড়ায় স্বাস্থ্য সেবায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। বগুড়া শহরের ভিতর দিয়ে বনানী-মাটিডালি সড়ক সম্প্রসারণ, বগুড়া বনানী ও সাবগ্রাম বাইপাস সড়ক নির্মাণ, বগুড়া শহরের পাইপ লাইনে সরকারি গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনের আদলে ২১টি ওয়ার্ডে বর্ধিত করণসহ নানা উন্নয়নে তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে কাজ করেছেন।
এছাড়াও বগুড়া শহরতলীর শাকপালা এলাকায় সড়ক বিভাগের ত্রিভুজ আকৃতির তিন সড়কের সংযোগস্থলে পায়ে হাঁটার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গত ১৭ বছরে অযত্নে-অবহেলায় পড়েছিল পার্কটি। বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা তারেক রহমানের নির্মাণ করা পার্কটি আবারও আগের মতো করে গড়ে তুলবেন।
বগুড়ার পল্লীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বপ্নের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ১৭ বছরে আলোর মুখ দেখেনি। বাকরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এই হাসপাতালটি। ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বগুড়ার গাবতলী উপলজেলার কাগইলে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামত নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। রাষ্ট্র মেরামতের কথা তিনি প্রতিনিয়তই নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে বিভিন্ন মহলে বলে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি মানুষ যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, নিশ্চয়ই তারেক রহমান বগুড়াসহ দেশের মানুষের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, তারেক রহমানের বগুড়ায় আসার খবর আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। ১৭ বছর বগুড়ায় কোন উন্নয়ন হয়নি। এখন তার হাত ধরেই বগুড়ার উন্নয়ন ঘটবে। বগুড়ার মানুষকে তারেক রহমান ভালোবাসেন। বগুড়ার মানুষের জন্য তিনি বেশ কিছু উন্নয়ন উপহার দেবেন।
বগুড়ার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, বগুড়া শহরের নবাববাড়ীতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য অত্যাধুনিক ডিজাইনের অফিস তৈরি করার জন্য আমাকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা নির্দেশ দেন। তার সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমি একটি ডিজাইন তৈরি করেছি। ডিজাইন অনুযায়ী অফিস তৈরির কাজ প্রায় শেষ।
