৫ লাখ স্নাতকধারী বেকারকে বিনা সুদে ঋণ দেবে জামায়াত

Posted on January 21, 2026   9K

৫ লাখ স্নাতকধারী বেকারকে বিনা সুদে ঋণ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতায় গেলে মাসে ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত এই ঋণ দেবে দলটি। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছর এ সুবিধা পাবেন তরুণেরা। সেই সঙ্গে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ দলের পক্ষ থেকে এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই নীতি সম্মেলনে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের রাজনীতিবিদ শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে (বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে বলেও ঘোষণা দেয় দলটি।

সম্মেলনে আগামী তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মাশুল বাড়ানো হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। এ ছাড়া বন্ধ কলকারখানা সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) চালু ও ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়া, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণসুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে দলটি। জামায়াত আরও বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে এবং ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করবে। কর ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ধাপে ধাপে কমানো হবে। দীর্ঘ মেয়াদে কর ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে (এখন ১৫ শতাংশ) নিয়ে আসা হবে এবং স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে) চালু করা হবে।

‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেজ প্রোগ্রাম’ বা প্রথম ১ হাজার দিনের কর্মসূচির আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসাও জামায়াতের লক্ষ্য।

তরুণদের জন্য জামায়াতের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, দক্ষ জনশক্তি ও ‘জব প্লেসমেন্ট’–এর জন্য নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি, ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫০ লাখ ‘জব অ্যাকসেস’ (কর্মে প্রবেশ) নিশ্চিত; নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি, স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা।

তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাত উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করেছে জামায়াত। দলটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি সম্পৃক্ত কর্মসংস্থান ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়, আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে।

দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি, ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসার কথা বলেছে জামায়াত।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment