যাত্রীবেশে চালকের গলায় ছুরি, অটোরিকশা ছিনতাই

Posted on April 29, 2024   6.8K

বরিশালে যাত্রীবেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে চালকের গলায় ছুরি বসিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বরিশাল নগরের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে।


ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-ঘটনার মূল অভিযুক্ত বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া এলাকার শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে মো. মাসুম হাওলাদার (৩০) ও তার স্ত্রী সাথী (২৩) এবং নগরের বাংলাবাজার বড়বাড়ি এলাকার ভাড়াটিয়া দুলাল খানের স্ত্রী বিউটি বেগম (৪৩) ও বান্দরোড এলাকার বাসিন্দা মো. মাহবুবুর রহমান (৪৫)।


ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অটোরিকশা চালকের নাম মো. হুমায়ুন কবির হাওলাদার (৪০)। তিনি নগরের সাধুর বটতলা এলাকার ভাড়াটিয়া ও বাকেরগঞ্জের গারুরিয়া ইউনিয়নের চর বালিগা এলাকার আব্দুল জলিল হাওলাদারের ছেলে। তিনি এখন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  


ডিবির পরিদর্শক মো. ছগির হোসেন জানান, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঝখানের গেটের সামনে হুমায়ুন কবির হাওলাদার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। ওইসময় এক দম্পতি সঙ্গে একটি শিশু নিয়ে রিকশার কাছে আসেন। তারা যাত্রী সেজে চালক হুমায়ুনকে নগরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার উলিয়ামপাড়া যাওয়ার কথা বলেন।


তিনি জানান, কিছুক্ষণ পরে হুমায়ুন তাদের নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের অদূরে আইএইচটির কাছাকাছি পৌঁছান। তখন যাত্রীবেশী দম্পতি রিকশাচালক হুমায়ুনের গলার সামনের দিকে শ্বাসনালী বরাবর ধারালো চাকু দিয়ে কেটে জখম করে। পরে চালককে সেখানে ফেলে দিয়ে রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে পথচারীরা রিকশাচালক হুমায়ুনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।


বিষয়টি জানতে পেরে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা অভিযানে নামেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়।


নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ছগির হোসেন বলেন, তারা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এর আগেও এমন অপরাধ তারা করেছেন। ছোট সন্তানকে নিয়ে গাড়ি ভাড়া করতেন। ফলে কোনো চালকই তাদের সন্দেহের চোখে দেখতো না। এ ঘটনায় দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment