গাজা চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী ট্রাম্প
Posted on December 30, 2025 11K
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস যদি দ্রুত অস্ত্র সমর্পণ না করে, তাহলে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে চাই। তবে এর জন্য অবশ্যই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এখন যদি তা না করে, তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অস্ত্র ছেড়ে দিতে হবে।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তি পরিকল্পনার শর্তগুলো ইসরায়েল ‘শতভাগ মেনে চলছে’।
গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান নিয়েও কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি পুনরায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আবারও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে। বর্তমানে ইরান নতুন কোনো স্থানে কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র নজরদারিতে রেখেছে বলে জানান তিনি।
গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি কারিগরি (টেকনোক্র্যাট) সরকার গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন শুরু হওয়ার কথা।
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।
বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।
উল্লেখ্য, গত জুনে সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প।
