পাওয়া যাচ্ছে না ফুটেজ বদল হয়েছে হার্ডড্রাইভ!
Posted on April 02, 2026 6.3K
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে এবার। খোদ প্রসিকিউশন টিমেরই একজন সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ের নির্ধারিত স্থানের সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে প্রযুক্তিবিদ ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা এ কথা জানান। তিনি বলেন, গত বছরের ১৩ অক্টোবর সিসি ক্যামেরা থেকে গায়েব হওয়া ফুটেজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেও উদ্ধার করা যায়নি। বিষয়টি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রসিকিউটরের অফিস কক্ষে বড় ব্যাগ নিয়ে আসামির স্ত্রীর সাক্ষাৎ, টাকার বিনিময়ে রাজসাক্ষী বানানোর অভিযোগ, জামিন করিয়ে দিতে আসামির পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবির ঘটনার মতো বিষয় একের পর এক সামনে এসেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগের পর ঘটনাগুলো সামনে আসতে থাকে। এরপর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান মো. আমিনুল ইসলামের কাছে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তদন্ত শেষের দিকে। চলতি মাসেই প্রতিবেদন দিতে পারব বলে আশা করছি।’ কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (অ্যাডমিন) গাজী এম এইচ তামীম। প্রসিকিউশন থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য প্রদানের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি এ দাবি করেন। একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ থাকা-না থাকার বিষয়ে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এখনো কোনো কাজ শুরু করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর জোহাকেও এ বিষয়ে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনিও এ বিষয়ে কমিটিকে কিছু জানাননি। অতএব সিসিটিভি ফুটেজ থাকা-না থাকার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত। অনুসন্ধান চলাকালে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত।’ পরে আরেকটি বার্তায় তামীম জানান, ‘ট্রাইব্যুনাল সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কোনো ফুটেজ গায়েব হয়নি।’ ফুটেজ গায়েবের বিষয়ে প্রসিকিউটর তানভীর জোহা সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা জানতে পেরেছি, সিসলগগুলোতে যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিল, সেখানে পুরোনো-নতুন কিছু হার্ডড্রাইভ সংযোজিত-বিয়োজিত (রিপ্লেস) হয়েছে। সিসলগ এবং রেজিস্টার খাতায়ও আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি দেখতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা তদন্তাধীন বিষয়। আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মন্ত্রণালয় দ্বারা আদিষ্ট হয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে এবং রিকমেন্ডেশন (সুপারিশ) করবে। সুতরাং আমি এ বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করতে পারছি না।’
