‘আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হইয়েন না’

Posted on April 01, 2026   10.7K

এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিধি-৬২-তে আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, ব্যাপার তো অনেক কমপ্লেক্স, একটা ইউনিক সিচুয়েশন। আমি আমার সম্মানিত বিরোধী দলের নেতাদের চোখে আবেগ দেখি, কথায় দেখি; তবে একটা জিনিস এটাও দেখি যে, কেন জানি প্রথম থেকেই আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় সংসদে হট্টগোল শুরু হলে তিনি বলেন, আমাকে কথা বলতে দাও, প্লিজ। আমার আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম-বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম, তেলের দাম কত-বলত যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই অ্যাটিটিউডটা দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা, We have no problem with July সনদ। আমাদের প্রবলেম প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট আগে থেকেই দেওয়া।

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আপনারা সেই সময় রেভল্যুশনারি গভর্মেন্ট কেন করেননি? কেন নরমাল গভর্মেন্টে গেলেন? ট্রানজিশনাল রেভল্যুশনারি গভর্মেন্ট করতেন, রিট দ্য কনস্টিটিউশন, ছিঁড়ে ফেলে দিতেন। পুরনো কনস্টিটিউশনে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে যাচ্ছেন, এটা আসলে হয় না।

জুলাই আন্দোলনে সবার অংশীদারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, এখানে যারা বসা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত বছর জেল খেটেছেন? মাননীয় এলজিআরডিমন্ত্রী কয়বার জেল খেটেছেন? আমির সাহেব, সালাউদ্দিন সাহেব বা আমি-আমরা সবাই জুলাইযোদ্ধা। কিন্তু যখনই ফ্লোর আপনাদের হাতে চলে যায় আপনারা আমাদের অ্যাটাক করেন। যেন জুলাইতে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নেই।

জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন ‘আপনাদের যখন ব্যান্ড করা হয়েছিল আপনারা তো কোনো কথা বলেননি। অথচ এখন আপনারা আমাদেরকে লগারহেডসে নিয়ে যাচ্ছেন, এতে দেশবাসী বিভ্রান্ত।

গণভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, আপনারা গণভোটে চারটা কথা বলেছেন। একটা ভোটারের কাছে যদি আমি জিজ্ঞাস করি আমি একটাতে ভোট দিতে চাই না আমি কী করব? না-তে ভোট দেব? সেই জবাব নেই। আপনি আমাকে বাধ্য করেছেন। এই আদেশে মাত্র চারটা বিষয়ে গণভোট করেছেন, বাকি প্রভিশনগুলো কোথায়?

তিনি বলেন, এই রেভল্যুশনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম। বিশ দলে ছিলাম। চার দলে ছিলাম। অনেক আগে থেকেই। আমরা চাই না কিন্তু এই যে একটা প্রক্রিয়া সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও, সংবিধানকে ছুড়ে ফেলব কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয়, এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল। আমি সংবিধান কেন ছুড়ে ফেল দেব। এই সংবিধানে গাত্রদাহ কেন হবে, এত গায়ে লাগবে কেন?

একপর্যায়ে এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না। আপনারা পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসবেন।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদ যখন শহীদ হয়েছেন, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছেন। কন্ট্রিবিউশন কারো কম নয়। আপনারা সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে লাস্টে এসে বলছেন শরিয়াহ আইন চাই না। আপনারা তো ভোটের জন্য এসব করেছেন। সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ স্ট্যান্ড করে, আমি আন্দালিব রহমান পার্থ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। তবে সিস্টেম ডিক্টেট করবেন না।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment