ঋণের ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জাবেদের ভাই বোনদের বিরুদ্ধে আট মামলা

Posted on December 22, 2025   11.3K

প্রান্তিক শ্রেণীর লোকজনকে ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণের ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচিত সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই বোনদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় জাবেদ পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারী এবং ইউসিবিএল ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ এসব মামলা করা হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদক সূত্র জানায়, আট মামলার প্রতিটিতে জাবেদের ছোট ভাই ও ইউসিবিএল ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনিকে আসামি করা হয়েছে। ব্যাংকটির আরেক পরিচালক জাবেদের আরেক ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে সাত মামলায়। তিনটি মামলায় জাবেদের বোন ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক রোকসানা জামান চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ইউসিবিএল’র বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য এবং জাবেদ পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মচারীকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

যাদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে তারা হলেন- সেলুন কর্মচারী রাজধন সুশীল, কৃষক মো. মাঈন উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম, প্রবাসী সাইফু উদ্দিন, ফুটবল খেলোয়াড় দিদারুল আলম এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আমির হামজা।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, মামলাগুলোতে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে মোট ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামের সহজ-সরল লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে বিভিন্ন তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে তাদের নামে ইউসিবিএলে হিসেব খোলা হয়। এরপর তাদের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। আর জাবেদ পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নামে খোলা একই ব্যাংকের হিসেব নম্বরে সেই টাকা স্থানান্তর করে পরবর্তীতে তা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে এ অনিয়ম ও জালিয়াতি সংঘটিত হওয়ার সময় ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জাবেদ। তখন ব্যাংকে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। জাবেদের ভাই-বোন ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্য প্রভাব সৃষ্টি করে এসব ঋণ অনুমোদন করেন এবং সেগুলো পরবর্তীতে সরিয়ে নিয়ে মিলেমিশে আত্মসাৎ করেন। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও (৩) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

Share on

Tags

(0) Comments

  • Nothing Found!

Add Comment